বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৮২ হাজার ১৪৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এরমধ্যে এখন পর্যন্ত শুধু ইতালি, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, স্পেন ও ফ্রান্সেই মারা গেছেন ৫৪ হাজার ৩৫৭ জন। অন্যদিকে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ লাখ ২ হাজার ৪৬৫ জন।
গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটার।
বুধবার স্পেনে কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৭৫৭ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ৭৪৩।
কয়েকদিন কমার পর মঙ্গলবার থেকে টানা দ্বিতীয় দিন মৃত্যুর সংখ্যার এমন ঊর্ধ্বগতি কর্মকর্তাদের উদ্বেগও বাড়াচ্ছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।
স্পেনে এর আগে গত ২ এপ্রিল করোনাভাইরাসে একদিনে সর্বোচ্চ ৯৫০ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
ইউরোপের এ দেশটিতে চারদিনের মধ্যে বুধবার করোনাভাইরাসে আক্রান্তও বেশি শনাক্ত হয়েছে। কর্মকর্তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ হাজার ১৮০ জনের দেহে কোভিড-১৯ পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত স্পেনে এক লাখ ৪৬ হাজার ৬৯০ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, যা ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি; মৃতের সংখ্যাও সাড়ে ১৪ হাজার পেরিয়ে গেছে।
বুধবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক ড. হানস ক্লুগে জানান, ইতালি ও স্পেনে মহামারীর প্রকোপ কমে আসার ইঙ্গিত মিললেও মহাদেশটির পরিস্থিতি এখনও ‘বেশ নাজুক’।
এর মধ্যে জার্মানিতে পরিস্থিতিই তুলনামূলক সন্তোষজনক; দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়ালেও মৃতের সংখ্যা দুই হাজারের সামান্য বেশি।
ভাইরাস শনাক্তে ব্যাপক পরীক্ষার কারণেই জার্মানি কোভিড-১৯ পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস মহামারীতে এবার ফ্রান্সেও মৃত্যু ১০ হাজার ছাড়াল।
বুধবার সকাল নাগাদ জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়া পরিসংখ্যানে ফ্রান্সে করোনাভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ এ মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ৩২৮ জনে দাঁড়িয়েছে বলে দেখা গেছে।
এর আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশটির হাসপাতালগুলোতে ৬০৭ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে বলে বিবিসি জানিয়েছে।
নার্সিং হোমগুলোতে আরও ৮২০ মৃত্যু রেকর্ড করা হলেও গত কয়েক দিনে এদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে আর একসঙ্গে এদের নাম তালিকায় ওঠানো হতে পারে বলে খবরে বলা হয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে লকডাউনে আছে ফ্রান্স। লকডাউন বিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানার বিধানও রাখা হয়েভারতে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে হটস্পটগুলো চিহ্নিত করে তা ‘সিল’ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশ প্রথম এ পদ্ধতি প্রয়োগ করতে চলেছে।
তাছাড়া, রাজধানী দিল্লি, মুম্বাই এবং দক্ষিণের কিছু এলাকাতেও হটস্পটগুলো সিল করে দেওয়া এবং অন্যান্য জায়গায় কড়াকড়ি শিথিল করার কথা ভাবা হচ্ছে।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি তিন সপ্তাহের লকডাউনের কারণে যে অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে তা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হিসাবেই এমন পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে বলে বুধবার জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
এনডিটিভি জানায়, উত্তরপ্রদেশ সরকার রাজ্যের ১৫ টি জেলাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হটস্পটগুলো ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ‘সিল’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ৬ জন বা তার বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া এলাকাগুলোকেই হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত করেছে রাজ্য সরকার।
Tags
বিশ্ব

Post a Comment